in

চেঙ্গিস খানের অজানা কিছু দিক

No accurate portraits of Genghis exist today, and any surviving depictions are considered to be artistic interpretations. Persian historian Rashid-al-Din recorded in his "Chronicles" that the legendary "glittering" ancestor of Genghis was tall, long-bearded, red-haired, and green-eyed. Rashid al-Din also described the first meeting of Genghis and Kublai Khan, when Genghis was shocked to find that Kublai had not inherited his red hair.Also according to al-Din Genghis' Borjigid clan, had a legend involving their origins: it began as the result of an affair between Alan-ko and a stranger to her land, a glittering man who happened to have red hair and bluish-green eyes. Modern historian Paul Ratchnevsky has suggested in his Genghis biography that the "glittering man" may have been from the Kyrgyz people, who historically displayed these same characteristics.

চেঙ্গিস খানের নাম নিশ্চয়ই শুনেছেন? নিজের শক্তি, চাতুর্য আর পরাক্রমশীলতায় পুরো পৃথিবীতে রাজত্ব করার স্বপ্ন দেখেছিলেন এই মানুষটি। আর সেটা করতে গিয়েই সবার কাছে নিষ্ঠুরতার উদাহরণ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি। মঙ্গোলিয়া থেকে তার শুরু হলেও, ছড়িয়ে গিয়েছিলেন তিনি অনেক অনেক দূর পর্যন্ত। এই সাধারণ তথ্যগুলো তো সবাই জানে। কিন্তু আজ সেসব নিয়ে নয়, কথা বলবো চেঙ্গিস খানের অজানা কিছু তথ্য নিয়ে। আপনার যদি না জানা থাকে, তাহলে লেখাটি পড়তে পারেন আপনিও।

সবাই তেমুজিনকে চেঙ্গিস নামেই চেনে বেশি ; Image Source: http://mediad.publicbroadcasting.net

চেঙ্গিস খানের আসল নাম

আমরা চেঙ্গিস খানকে যে নামে চিনি সেটা মূলত তার আসল নাম নয়। ১১৬২ সালে মঙ্গোলিয়ার পাহাড়ি এক অঞ্চলে জন্ম নেন চেঙ্গিস খান। সেখানে তার বাবা প্রতিপক্ষের এক কয়েদীর নামে চেঙ্গিসের নামকরণ করেন- তেমুজিন। অবশ্য, সবাই তেমুজিনকে চেঙ্গিস নামেই চেনে বেশি। চেঙ্গিস খানের ‘চেঙ্গিস’ নামটাও কিন্তু একটু অন্যরকম। কারণ, তার নামের ইংরেজি বানানটা শুরু হয় ‘জি’ দিয়ে। সহজ করে বলতে গেলে, চেঙ্গিস খানের নামের উচ্চারন জেঙ্গিস খানও বলা চলে। বাংলায় এই নামের বানানে কিছুটা পরিবর্তন এসেছে।

অপহৃত হয়েছিলেন চেঙ্গিসের স্ত্রী

১১৭৮ সালে বিয়ে হয় চেঙ্গিস খানের। পাশের বন্ধু গোত্রের মেয়ে বোরতেকে নিয়ে সুখী ছিলেন চেঙ্গিস। কিন্তু এর মধ্যেই মঙ্গোলিয়ার আরেক শত্রু গোত্র বোরতেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। সেখান থেকে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে দূর্ধর্ষ এক পরিকল্পনা করেন চেঙ্গিস। আর তার পরিকল্পনা সফল হয়। শেষ পর্যন্ত বোরতেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন তিনি। বোরতে চেঙ্গিস খানকে পরবর্তীতে ৪ টি পুত্রসন্তান এবং ৬ জনের বেশি কন্যাসন্তান উপহার দেন।

চেঙ্গিস খান এই সময়েই তার উপাধি পান ;Image Source: upload.wikimedia.org

মঙ্গোলিয়ার একক শাসক

খুব বেশিদিন সময় লাগেনি। তবে সময়টা খুব একটা কমও ছিলো না। চেঙ্গিস খান অবশেষে নিজের চাওয়া পূর্ণ করেন। শুধু পার্বত্য অঞ্চল নয়, সমভূমিতেও আক্রমণ করেন তিনি। সবাই তার বশ্যতা স্বীকার করে নেয়। মঙ্গোলিয়া হয়ে যায় চেঙ্গিসের একক শাসনভূমি। চেঙ্গিস খান এই সময়েই তার উপাধি পান। তেমুজিন থেকে হয়ে যান চেঙ্গিস খান বা বিশ্বের শাসক। তবে এই বিজয়ের পর ক্ষমতার জন্য আরো বেশি লোভী হয়ে পড়েন চেঙ্গিস। মঙ্গোলিয়ার বাইরের অংশগুলোও নিজের আয়ত্বে আনার জন্য আক্রমণ করা শুরু করেন তিনি।

চেঙ্গিসের প্রথম লক্ষ্য

চেঙ্গিস খান অনেক দেশেই আক্রমণ করেছেন। রক্তের বন্যা বইয়ে দিয়ে নিজের শাসন প্রতিষ্ঠা করেছেন। তবে, তার এই লড়াইয়ের প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল চীন। পার্শ্ববর্তী দেশকে দিয়েই নিজের কাজ শুরু করে চেঙ্গিস খান। সময়টা ছিল ১২০৯। চীনে জিন রাজত্ব চলছিল তখন। সেসময় জিন রাজত্ব চীন এবং মাঞ্চুরিয়ান ঘিরে শাসনকাজ পরিচালনা করতো। তবে জিন রাজত্বের আগেই শিয়া রাজত্বে হামলা করে জয়লাভ করেন চেঙ্গিস খান।

চেঙ্গিসের প্রথম বড় জয়

জিন রাজত্বের মতো বড় একটি রাজত্বকে নিজের আওতায় আনার মাধ্যমে প্রথম নিজের সবচাইতে বড় জয় লাভ করেন চেঙ্গিস খান। ১২১১ সালের মধ্যে চেঙ্গিস খান জিন রাজত্বের সমস্ত কোণায় রক্তের বন্যা বইয়ে দেন। সেখানকার সমস্ত মানুষ ও সৈন্যকে কোনঠাসা করে ফেলেন। সবাই তার আধিপত্য মেনে নেয়। এর চার বছর পর, ১২১৫ সালে চেঙ্গিস খান জিন রাজত্বের রাজধানী ঝংডুকে দখল করেন। বর্তমানে এই স্থানটিকে আমরা বেইজিং নামে চিনি। এর জয়ের পর চেঙ্গিস খোয়ারেজমিদে আক্রমণ চালান।

অবশ্য প্রথমেই যুদ্ধের কোনো ইচ্ছে ছিল না চেঙ্গিস খানের। তিনি নিজের দূত পাঠিয়েছিলেন খোয়ারেজমিদে। কিন্তু উত্তরে দূতকে মেরে ফেলা হলে রেগে যান চেঙ্গিস। পুরো মঙ্গোলিয়া ঝাপিয়ে পড়ে বর্তমান সময়ের তুর্কমেনিস্তান, উজবেকিস্তান, আফগানিস্তান এবং ইরান, অর্থ্যাৎ, খোয়ারেজমিদে। খুব দ্রুতই পতন হয় এই রাজত্বেরও।

শেষ পর্যন্ত বোরতেকেই নিজের সাথে সবসময় রেখেছিলেন চেঙ্গিস ; Image Source: www.thevintagenews.com

চেঙ্গিসের ৫০০ জন স্ত্রী

ভাব যায়! একজন মানুষের ৫০০ জন স্ত্রী! চেঙ্গিস খান অবশ্য এই ব্যাপারটিকে বাস্তব করে তুলেছিলেন। আবার অনেকে বলে থাকেন, এটা কোনো সঠিক সংখ্যা নয়। আরো অনেকজন স্ত্রী ছিলেন চেঙ্গিসের। তবে শেষ পর্যন্ত বোরতেকেই নিজের সাথে সবসময় রেখেছিলেন চেঙ্গিস। এমনকি, শুধু বোরতের কাছ থেকে চেঙ্গিস খানের সন্তানেরাই তার উত্তরাধিকার পেয়েছিল।

চেঙ্গিস খানের মা

ইতিহাসে চেঙ্গিস খানকে চেনেন সবাই। কিন্তু চেঙ্গিস খানের মা হোয়েলুনের নাম প্রায় সবার কাছেই অজানা। চেঙ্গিস খান পরবর্তী সময়ে যা হয়েছিলেন তার পেছনে হোয়েলুনের অবদান ছিল অনেক। তিনিই চেঙ্গিসকে শিখিয়েছিলেন যে, মঙ্গোলিয়ার মধ্যে একাত্মতা খুব দরকার। আর এজন্যেই পুরো দেশকে এক করতে চেয়েছিলেন চেঙ্গিস খান।

১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার অর্জন ছিল কাস্পিয়ান সাগর থেকে শুরু করে জাপান সাগর পর্যন্ত ১৩,৫০০,০০০ কিলোমিটারের পুরো স্থান ; Image Source: static.independent.co.uk

ইতিহাসের দ্বিতীয় বড় সাম্রাজ্য

চেঙ্গিস খানের শুরুটা হয়েছিল পুরো মঙ্গোলিয়াকে একত্র করার লক্ষ্য নিয়ে। পরবর্তীতে সেই লক্ষ্য পূরণ হয়। তবে লক্ষ্যটাকে আরো বাড়িয়ে তোলেন এই শাসক। তাই ১২২৭ সালে চেঙ্গিস খান যখন মৃত্যুবরণ করেন, তখন তার অর্জন ছিল কাস্পিয়ান সাগর থেকে শুরু করে জাপান সাগর পর্যন্ত ১৩,৫০০,০০০ কিলোমিটারের পুরো স্থান।

তবে এটা শুধু চেঙ্গিস খানের শুরু ছিল। এই সাম্রাজ্য পরবর্তীতে চেঙ্গিসের ছেলেমেয়েরা আরো বাড়িয়ে তলে। ১২৭৯ সালে এই মঙ্গল সাম্রাজ্য নিজের সবচাইতে বেশি ব্যাপ্তি পায়। এসময় পূর্ব হাঙ্গেরি পর্যন্ত চলে গিয়েছিল মঙ্গল শাসন। পৃথিবীর সবচাইতে বড় সাম্রাজ্যের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানটি অর্জন করে নেয় চেঙ্গিস খানের গড়ে তোলা এই সাম্রাজ্য।

চেঙ্গিস খান হয়তো এতোটা ভেবে নিজের যাত্রা শুরু করেননি। তবে পৃথিবীর ১৬% অংশ জুড়ে থাকা তার মঙ্গল সাম্রাজ্যকে একনামে আজ সবাই চেনে। ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের পরেই এর অবস্থান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ক্রুসেডের কিছু অজানা ইতিহাস

পৃথিবীর যে স্থানগুলোতে যীশুখ্রিষ্ট ভ্রমণ করেছিলেন!