in

পৃথিবীর যে স্থানগুলোতে যীশুখ্রিষ্ট ভ্রমণ করেছিলেন!

গসপেল অনুসারে, বর্তমান সময়ের ইসরায়েল, ফিলিস্তিন, মিশর এবং লেবাননে যীশুখ্রিষ্ট ভ্রমণ করেছিলেন। কিন্তু জনপ্রিয় এইসব ধারনাগুলোর মধ্যে কোনটি সত্যি, আর কোনটি পৌরাণিক গল্প সেটা সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য আছে কী? যুগে যুগে প্রত্নতাত্ত্বিকদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই প্রশ্নটি। আর তাই নানারকম ঐতিহাসিক স্থানে তারা গিয়েছেন। আর সেখানে যীশুখ্রিষ্ট ছিলেন কিনা এবং থাকলেও কী কারণে সেখানে গিয়েছিলেন- তা বের করার চেষ্টা করেছেন। এমন না যে তাদের এই তথ্যগুলো পুরোপুরি সত্যি। তবে, অকাট্য সত্যি হোক কিংবা সত্য-মিথ্যের মিশেল- এই তথ্যগুলো গবেষণালব্ধ এবং নির্ভর করার মতো। চলুন না, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক পৃথিবীতে যীশুখ্রিষ্টের পদচিহ্ন পড়েছে এমন স্থানগুলোকে।  

টেম্পল মাউন্ট

তিনি সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের টেবিল সরিয়ে নেন ; Image Source: assetsnffrgf-a.akamaihd.net

যিশুর সময়ে মাউন্ট টেম্পল ছিল ইহুদীদের কাছে সবচাইতে পবিত্র স্থান। গসপেল অব ম্যাথিউ অনুসারে, টেম্পল মাউন্টে ব্যবসায়ী এবং টাকা বিনিময়কারীদের উপস্থিতির কথা জানতে পেরে যীশু অসম্ভব রেগে যান। তিনি সেখানে গিয়ে ব্যবসায়ীদের টেবিল সরিয়ে নেন এবং পবিত্র এই স্থানটিকে ডাকাতি করার জায়গায় বদলে ফেলার জন্য তাদের নিন্দা করেন। আনুমানিক ৭০ খ্রিষ্টাব্দে রোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে করা এক ইহুদি বিপ্লবের সময় রোমানরা এই টেম্পল ভেঙ্গে ফেলে। এটি সেকেন্ড টেম্পল নামেও পরিচিত ছিল। এই টেম্পলের পশ্চিমের একটি দেয়াল এখনো টিকে আছে। বর্তমানে ইহুদী এবং মুসলিম- দুই ধর্মের জন্যই এই স্থানটি পবিত্র। একইসাথে এটি ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যকার সমস্যার অন্যতম একটি কারণ। ধর্মীয়ভাবে এই স্থানটির এতো বেশি গুরুত্ব থাকায় এবং এটিকে ঘিরে সংঘাত হওয়ায় প্রত্নতাত্ত্বিকরা সবসময় এখানে কাজ করার চেষ্টা করেছেন। স্থানটি থেকে অনেক মজার ও গুরুত্বপূর্ণ ধ্বংসাবশেষ, এই যেমন- ৩,০০০ বছর আগের খোদাইকৃত লেখা পাওয়া গিয়েছে।

নাজারেথ

গসপেল অনুসারে, যীশুর জন্ম বেথেলহামে হলেও তিনি নিজের প্রথম জীবনের বেশিরভাগ সময়ই কাটিয়েছেন উত্তর ইসরায়েলের নাজারেথে। সম্প্রতি পাওয়া এক গবেষণানুসারে, নাজারেথে ইহুদীবসতি ছিল। আর এই বসতির বাসিন্দারা রোমান সংস্কৃতিকে গ্রহন করতে চাননি। বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের পক্ষ থেকে নাজারেথে অবস্থিত যিশুর ঘরকে নিরাপত্তা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। এখনও সেখান থেকে প্রত্নতাত্ত্বিকেরা প্রাচীন সব উপাদান খুঁজে পান। প্রথম খ্রিষ্টাব্দে ব্যবহার করা হয়েছে এমন দুটো ঘর এবং শিল্প খুঁজে পেয়েছেন তারা নাজারেথ থেকে। যীশু তখন বেঁচে ছিলেন। তাই, এই ঘরগুলোর যেকোনো একটি তার ছিল, এমনটাই মনে করা হয়।

সী অব গ্যালিলী

এক রোমান প্যারালাইজড সামরিক শাসকের শরীর ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি ; Image Source: www.godisreal.today

গসপেলের অনেক গল্পই গড়ে উঠে সী অব গ্যালিলী বা ইয়াম (জাম) লেককে ঘিরে। এখানেই যীশু পানির উপরে হেটেছিলেন, এমনটা মনে করা হয়। যদিও এর সত্যতা সম্পর্কে জানা যায় না। তবে এই সমুদ্রে ৪,০০০ বছরেরও বেশি পুরোনো, ৬০ হাজার টন ওজনের পাথর খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে সমুদ্রের একেবারে নিচে অবস্থিত কোণাকৃতির কিছু পাথরকে সমাধিস্থলের চিহ্ন বলেও মনে করা হয়। এছাড়া, ১৯৮৬ সালে ২,০০০ বছর পুরনো মাছ ধরার নৌকাও এখানে মাটির নিচে খুঁজে পাওয়া যায়। এই নৌকার মাধ্যমে যীশুর সময়ে নৌকা কেমন হতো সে সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।

বেথেলহাম

২০১৬ সালে পাওয়া এক তথ্যানুসারে, ৪,০০০ বছর পুরনো সমাধিও এখানে খুঁজে পাওয়া যায় ; Image Source: i.pinimg.com

গসপেলে বলা হয়েছে যে, প্রথম খ্রিষ্টাব্দে বেথেলহামের শহরে যীশু জন্ম নেন। বেথেলহামে করা গবেষণার মাধ্যমে পাওয়া যায় যে, এখানে হাজার বছর ধরে মানুষ বাস করেছে। ২০১৬ সালে পাওয়া এক তথ্যানুসারে, ৪,০০০ বছর পুরনো সমাধিও এখানে খুঁজে পাওয়া যায়। যীশুখ্রিষ্ট্রের জন্মস্থান হওয়ায় এটি খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে এখানে চার্চ অব নেটিভিটি তৈরি করা হয়। পরবর্তীতে এটি ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

জেরিকো

গসপেলে বলা আছে যে, যীশু জেরিকোতে গিয়েছিলেন এবং জাদুবলে একজন অন্ধ মানুষের দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। এসময় পুরো শহরের মানুষ যিশুখ্রিষ্টকে অনুসরণ করেন। কর সংগ্রাহক জাখাইউসের বাড়িতে এসময় অবস্থান করেন যীশু। প্রত্নতাত্ত্বিকদের পাওয়া তথ্যানুসারে, জেরিকো প্রায় ১০,০০০ বছর ধরে ব্যবহার করে আসা একটি শহর। এটি অনেকবার ধ্বংস হয়েছে এবং গড়ে উঠেছে।

ক্যাপেরনাম

সী অব গ্যালিলীর পাশেই অবস্থির ক্যাপারনাম শহরে যীশু নিজের অনেকটা সময় কাটিয়েছিলেন বলে মনে করা হয়। এখানে তিনি বেশ কিছু অসাধারণ কাজ করেছিলেন। এক রোমান প্যারালাইজড সামরিক শাসকের শরীর ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি। এছাড়া তিনি ক্যাপারনামের সিনাগগে শিক্ষাপ্রদানের কাজেও কিছুদিন নিয়োজিত ছিলেন বলে বর্ণিত আছে। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা ২,০০০ বছর আগে, যীশুর সময়ের কিছু ধ্বংসাবশেষ ক্যাপারনামে খুঁজে পেয়েছেন।

ক্যাপারনাম শহরে যীশু নিজের অনেকটা সময় কাটিয়েছিলেন বলে মনে করা হয় ; Image Source: wol.jw.org

পুল অব বেথেসডা

গসপেল অব জনে বলা আছে যে, জেরুজালেমে থাকাকালীন সময়ে যীশু বেথেসডাতে ভ্রমণ করেন। এই স্থানটির মানুষের রোগ সারিয়ে দেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা আছে বলে মনে করা হয়। এখানে এসে একজন পক্ষপাতগ্রস্থ মানুষকে উঠে দাড়াতে বলেন যীশু। আর তার কথা শুনে তোদিন ধরে চলৎশক্তিহীন মানুষটি উঠে দাড়ান এবং স্বাভাবিক মানুষের মতো চলাফেরা করা শুরু করেন। অনেকে অবশ্য মনে করেন যে, এই পুল বা খালের নয়, যীশু নিজের শক্তি দিয়েই এই চমৎকার কাজটি করেছিলেন। প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বেথেসডাতে মোট দুইটি পুল পেয়েছেন। পঞ্চম শতকের একটি চার্চ সেগুলোর উপরে নির্মাণ করা হয়েছিল।

যিশুখ্রিষ্টকে নিয়ে এই তথ্যগুলো সত্যি কিনা তা নিয়ে সন্দেহ থাকতেই পারে। তবে একটু ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন যে, তথ্যগুলো হয়তো ইতিহাসের কয়েকটি পাতা হিসেবে একেবারে মিথ্যেও নয়!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

চেঙ্গিস খানের অজানা কিছু দিক

ক্রুসেড (পর্ব ১): যেভাবে সূচনা ঘটেছিল ধর্মযুদ্ধের