in

শিল্প বিপ্লব: আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি

শিল্প বিপ্লব কী?

শিল্প বিপ্লব বলতে মূলত অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগ থেকে উনবিংশ শতক জুড়ে সেই সময়কালটিকে বোঝানো হয়ে থাকে, যখন ইংল্যান্ডে প্রযুক্তি, অর্থনীতি, শিল্পক্ষেত্র এবং সমাজের ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছিল। অনেকেই ১৯০০ সালকে শিল্প বিপ্লবের সমাপ্তিরেখা হিসেবে চিহ্নিত করে থাকে, আবার অনেকের মতে শিল্প বিপ্লব শেষ হয় ১৯০১ সালে, রানী ভিক্টোরিয়ার মৃত্যুর মাধ্যমে।

শিল্প বিপ্লব বলতে যে উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোর আকস্মিক উত্থান ও চরম উন্নতি সাধিত হয়েছিল, সে কথা কিন্তু বলা যাবে না। ইংল্যান্ড ও ইউরোপ জুড়ে খুব ধীরে ধীরে পরিবর্তনগুলো ঘটছিল, ঠিক যেভাবে বিবর্তনের মাধ্যমে মানুষ আজকের অবস্থানে এসে পৌঁছেছে। তবে এক-দুই বছরের পরিবর্তন পর্যালোচনা না করে যখন একটা লম্বা সময় জুড়ে সংগঠিত পরিবর্তনগুলোকে আমলে নেয়া হবে, তখন কিন্তু এ বিষয়টি প্রকট হয়ে যাবে যে শুধু ইংল্যান্ডই নয়, ইংল্যান্ডের পথ ধরে ইউরোপের অন্যান্য দেশেও সার্বিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছিল, যেগুলোকে বলা যেতে পারে আমাদের আধুনিক জীবনযাত্রার ভিত্তিস্বরূপ।

শিল্প বিপ্লব আধুনিক জীবনযাত্রার ভিত্তিস্বরূপ; Image Source: YouTube

কোথায় শুরু হয়েছিল শিল্প বিপ্লব?

১৭৬০ সালের দিকে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের সূচনা ঘটে। মূলত ইংল্যান্ডের শহর এবং শহুরে মফস্বলগুলোতে এ বিপ্লবের প্রভাব লক্ষ্য করা যেতে থাকে। যেমন ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম প্রভৃতি স্থানে শিল্প বিপ্লবের প্রাথমিক দৃষ্টান্ত দেখা যায়। এরপর ছোট শহর ও গ্রামগুলোরও বৃদ্ধি ঘটতে থাকে, তারাও অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে থাকে, এবং সেই সূত্র ধরে তারাও শিল্পক্ষেত্রে উন্নয়নের অংশীদার হয়ে ওঠে।

তাছাড়া এখানে আরেকটি বিষয় বলে রাখা প্রয়োজন যে, ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল বটে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এটি কেবল ব্রিটেনেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং এটি ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া থেকে শুরু করে এক পর্যায়ে উত্তর আমেরিকা, এমনকি জাপান পর্যন্তও বিস্তার লাভ করে।

কীভাবে শুরু হয় শিল্প বিপ্লব?

শিল্প বিপ্লবের শুরু হওয়া এবং দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ কিছু বিষয় প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো: যন্ত্রপাতির উদ্ভাবন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শ্রমশক্তিকে আরো কার্যকর করে তোলার জন্য বিভিন্ন পন্থার আবিষ্কার ইত্যাদি। এছাড়া সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, উনবিংশ শতকের পূর্বে জ্ঞানের আলোকবর্তিকার যুগে এমন অনেক ধারণা ও উপকরণ আবিষ্কৃত হয়, যেগুলো ব্রিটিশদের জ্ঞান বৃদ্ধি ও সমাজের উন্নতিতে বিশেষ অবদান রাখে।

শিল্প বিপ্লবের পূর্বে অধিকাংশ ব্রিটিশ নাগরিকই মফস্বল কিংবা গ্রাম এলাকায় বাস করত। বিভিন্ন শিল্পের কারিগররা হাতেই টেক্সটাইল, কাপড়, ঝুড়ি ইত্যাদি তৈরি করত। তারা তাদের ঘরে বসে এসব পণ্য তৈরি করত, এবং তারপর সেগুলো পাঠিয়ে দিত নিজ গ্রামের বাজারে কিংবা বৃহত্তর কোনো শহরে বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে।

অষ্টাদশ শতকের শেষ ভাগে ইংল্যান্ডের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ফলে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদাও বৃদ্ধি পায়। কারিগররা, যারা ইতিপূর্বে হাতে তৈরি করত বিভিন্ন পণ্য, তখন কিছুতেই ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে পারছি না। বিশেষত কাপড় ও টেক্সটাইলের চাহিদা বাড়তে বাড়তে আকাশচুম্বি হয়। ফলে কম শ্রমশক্তি ব্যবহার করে বেশি উৎপাদন কীভাবে করা যায়, তা খুঁজে বের করা আবশ্যক হয়ে পড়ে।

১৭৬০’র দশকের শেষ দিকে, স্ট্যানহিলে বসবাসরত এক অশিক্ষিত তাঁতি নতুন এক ধরনের সূতা কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেন, যা দিয়ে সর্বোচ্চ ৮টি সূতা কাটার টাকু ব্যবহার করা যেত। অর্থাৎ আগে একজন তাঁতির পক্ষে একটি সূতা কাটা সম্ভব হলে, তখন তার পক্ষে সম্ভব হয় একই সাথে ৮টি সূতা কাটা। এবং এর পরবর্তী সংস্করণগুলোতে এমনকি একসাথে ৮০টি সূতা কাটার সুবিধাও আসে।

ইংল্যান্ডে শুরু হয়েছিল শিল্প বিপ্লব; Image Source: Axios

সূতা কাটার যন্ত্রের এমন অভূতপূর্ব উন্নতির ফলে, সামগ্রিকভাবে সূতা, তুলা প্রভৃতি তৈরি এবং সেগুলো দিয়ে কাপড় উৎপাদন করা আগের চেয়ে অনেক সহজ হয়ে যায়। তখন প্রতিটি কারখানাতেই আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব হয়, এবং সেজন্য তারা দক্ষ ও অদক্ষ সব ধরনের শ্রমিককেই চাকরি দিতে শুরু করে। এভাবে মানুষের তত্ত্বাবধানে যন্ত্র এমন সব অসম্ভব সাধন করতে থাকে, যা শুধু মানুষের পক্ষে কোনোদিন কল্পনা করাও সম্ভব ছিল না।

নগরায়ন

শিল্প বিপ্লবের সাথে একদম অবশ্যম্ভাবী হিসেবেই অন্য যে ঘটনাটি ঘটে, তা হলো নগরায়ন। আগে যারা গ্রামে বাস করত, তাদের মধ্যে অনেকেই কম পরিশ্রমে বাড়তি লাভের আশায় শহরে অভিবাসিত হতে শুরু করে, এবং বিভিন্ন কলকারখানায় চাকরি নেয়। এভাবে গ্রামগুলো ফাঁকা হয়ে যায়, আর শহরগুলো হয়ে ওঠে লোকে লোকারণ্য।

ওই একই সময়ে বাষ্প ইঞ্জিনও পূর্বাপেক্ষা বেশি শক্তি ব্যয়কারী ও উদ্ভাবনী যন্ত্র চালাতে সাহায্য করতে থাকে। শুধু কলকারখানাতেই নয়, বাষ্প ইঞ্জিনের মাধ্যমে জাহাজ, গাড়ি, রেলগাড়িরও অভূতপূর্ব উন্নতি সাধিত হয়। এছাড়া কিছু উৎপাদনকারী বাষ্প ইঞ্জিন দিয়ে রূপার বাসনকোসন এবং গহনাও তৈরি করতে শুরু করে।

শিল্প বিপ্লবের ফলে ঘটে নগরায়ন; Image Source: Wikimedia Commons

নগরায়নের ফলে মানুষ গ্রাম থেকে শহরে আসতে থাকে বলে, যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়নও অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর বাষ্প ইঞ্জিনের ফলে, রেলগাড়ি হয়ে ওঠে সেই উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার। রেলগাড়ি বাষ্প দিয়ে চলতে শুরু করে, ফলে মানুষের পক্ষে সম্ভব হয় দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেশের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে যাওয়া। পাশাপাশি উৎপাদনকারীরাও রেলগাড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে তাদের উৎপাদিত পণ্য দেশের দূর-দূরান্তের বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পাঠিয়ে দেয়ার সুযোগ পায়, এবং এর মাধ্যমে সামগ্রিকভাবে দেশের বাণিজ্য ও অর্থনীতি ফুলেফেঁপে ওঠে।

অর্থনীতির উত্থান

শিল্পক্ষেত্রে যত উন্নতি হতে থাকে, সেই সাথে মুক্ত বাজার ব্যবস্থাও (কিংবা অনেকের মতে পুঁজিবাদ) মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে থাকে। হঠাৎ করেই প্রচুর পরিমাণে ক্রেতা ও বিক্রেতা বাজারে প্রবেশ করতে থাকে, যারা অর্থের বিনিময়ে পছন্দের পণ্যের বাণিজ্যে আগ্রহী। সরকারও এতে খুব একটা হস্তক্ষেপ করেনি, পাশাপাশি ক্রেতা ও বিক্রেতাদের শোষণ বা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো সামন্ত ব্যবস্থাও ছিল না।

ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসাগুলো অতীতের চেয়ে বেশি মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদন করতে শুরু করে, যা ক্রেতারা অন্য প্রতিযোগীদের বদলে তাদের কাছ থেকেই কিনবে। একেকটি ব্যক্তি মালিকানাধীন ব্যবসা যত উন্নতি করতে থাকে, তাদের মালিকরা ততই কারখানার সংখ্যা বাড়াতে থাকে, এবং আরো অসংখ্য শ্রমিক নিয়োগ দিতে থাকে উৎপাদনের পরিমাণ বাড়ানোর লক্ষ্যে।

এ ধরনের প্রতিযোগিতা বাজার ব্যবস্থাকে সাহায্য করে নতুন ধরনের উদ্ভাবনে। কেননা ব্যবসায়ীরা বেশি লাভের আশায় বেশি ঝুঁকি নিতেও পিছপা হচ্ছিল না। তাছাড়া তারা তাদের লাভ বাড়ানোর জন্য কীভাবে যন্ত্রের আরো উন্নতি করা যায়, সেদিকেও পৃষ্ঠপোষকতা করতে শুরু করেছিল।

রেলগাড়ি হয়ে ওঠে উন্নয়নের প্রধান হাতিয়ার; Image Source: ThoughtCo

অল্প মজুরিতে বেশি পণ্য উৎপাদনের ফলে সামগ্রিকভাবে যেকোনো পণ্যের বাজারমূল্যও অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক কমে গিয়েছিল। আর এর প্রভাব পড়ছিল অন্য সকল শিল্পেও। যেমন বলা যায় সস্তার লৌহদ্রব্যের কথা, যে কারণে খুব কম খরচে রেললাইন, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামোও নির্মাণ করা যাচ্ছিল।

এভাবেই শিল্প বিপ্লবের ফলে অষ্টাদশ-উনবিংশ শতকে ইউরোপ ও আমেরিকার দেশগুলো অর্থনীতিতে অনেক বেশি এগিয়ে গিয়েছিল, এবং সেই সুবিধা তারা আজ অবধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ বিষয়টি খুব সহজেই দিনের আলোর মতো পরিষ্কার হয়ে যাবে, যখন আমরা তাকাব শিল্প বিপ্লব প্রথম থেকেই হয়েছে এমন ইউরোপীয় দেশগুলো এবং শিল্প বিপ্লব অনেক দেরিতে শুরু হয়েছে এমন তৃতীয় বিশ্ব যেমন আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর দিকে।

সামাজিক কাঠামো

শিল্প বিপ্লবের ফলে ইউরোপের সামাজিক কাঠামোতেও ব্যাপক পরিবর্তনের ছোঁয়া লাগে। প্রাযুক্তিক অগ্রগতির আগ পর্যন্ত ব্রিটেনের মানুষজন যেকোনো কাজ করত মৌসুম ও সূর্যের দিকে খেয়াল রেখে। সময় তখন পর্যন্ত মানুষের কাছে খুব বিশেষ কিছু বলে গণ্য হতো না, এবং তাই সময়ের ব্যাপারে সাধারণ মানুষ খেয়ালও রাখত না।

কিন্তু শিল্প বিপ্লবের ফলে যখন কলকারখানা ও রেলগাড়ির উদ্ভব ঘটল, এগুলো সঠিকভাবে চালনার জন্য সময়ের মূল্য হয়ে উঠল অপরিসীম। এজন্য কারিগররা অন্যান্য শিল্পের মতো ঘড়ি নির্মাণেও মনোযোগী হলো। রেলওয়ে নির্দিষ্ট সময় মেনে চলতে শুরু করল, যে কারণে সকল যাত্রীরও সময়ের হিসাব রাখার জন্য ঘড়ি মেনে চলা আবশ্যক হয়ে উঠল। তাছাড়া কলকারখানায় নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা মোতাবেক কাজ ও মজুরি প্রদানের রীতি তৈরি হওয়ায়, এমনকি শ্রমিক শ্রেণীর কাছেও সময় খুব জরুরি একটি বিষয় হিসেবে আবির্ভূত হলো।

এভাবে হুট করেই শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে ইংল্যান্ড অনেক বেশি দ্রুতগতি সম্পন্ন হয়ে ওঠে, এবং গোটা জাতির মাঝেই সময় সচেতনতার ভূত চাপে।

ইংল্যান্ড হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় সময় সচেতন; Image Source: The Gryphon

সময় ছাড়াও শিল্প বিপ্লবে ব্রিটেনের সমাজ কাঠামোয় আরেকটি বিশাল পরিবর্তন এনেছিল, তা হলো এটি সমাজে উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত তিনটি শ্রেণীর জন্ম দিয়েছিল। তাছাড়া মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনে লোভ জাগিয়েছিল যে তাদের পক্ষেও উচ্চবিত্ত শ্রেণীর অংশীদার হওয়া সম্ভব, আর সে লক্ষ্যে মধ্যবিত্ত শ্রেণী উঠেপড়ে লেগে নিজেদের উন্নয়ন ঘটাতে পারুক আর না পারুক, সার্বিকভাবে সমাজকে কিন্তু ঠিকই আরো উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল।

এ সময় “বুর্জোয়া” শব্দটির প্রচলন ঘটে, যার মাধ্যমে একক মালিকানাধীন সেসব ব্যবসায়ীদের বোঝানো হতো, যারা সমাজে সুখে-স্বাচ্ছন্দ্যে, বিত্ত-বৈভবে বাঁচতে পারত। এছাড়া শ্রমিক বা কর্মজীবী শ্রেণী বলতে বোঝানো হতো দিন-আনি-দিন-খাই গোছের সেসব অদক্ষ মানুষদের, যারা অন্যের হয়ে কাজ করত।

এ সময় সমাজে বিভিন্ন নতুন আইনও পাস হয়। সেরকম একটি হলো ১৮৩২ সালের রিফর্ম বিল, যা ১০ পাউন্ড মূল্যমানের জমি বা সম্পদের অধিকারী সকল পুরুষকে ভোটাধিকার দিয়েছিল।

ব্যক্তি বিশেষরা এ পর্যায়ে অবসর সময় কাটানোর সুযোগ পায়। তারা বিভিন্ন ক্লাবে যোগদান করে, বিভিন্ন পাবলিক লেকচারে যেতে থাকে, পাবলিক পার্ক বা গার্ডেনে ঘুরতে যায়, কিংবা দেশে-বিদেশে ভ্রমণ শুরু করে।

শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞান

শিল্প বিপ্লবের ফলে শিল্প, সাহিত্য ও বিজ্ঞানের অঙ্গনে প্রচুর নব্য বুদ্ধিজীবীর আবির্ভাব ঘটে, যারা এসব ক্ষেত্রকে ক্রমশ সমৃদ্ধ করতে থাকে।

চার্লস ডিকেন্স কিংবা টমাস হার্ডির মতো লেখকেরা এ সময়ই তাদের বিখ্যাত উপন্যাসগুলো লিখতে শুরু করেন। তাদের বিভিন্ন উপন্যাসে উঠে আসে শিল্প বিপ্লব চলাকালীন ভিক্টোরিয়ান ইংল্যান্ডের সমাজ কাঠামোর বিভিন্ন সমস্যা, অসঙ্গতি ও রূঢ় বাস্তবতা।

শিল্প বিপ্লবের স্বরূপ ফুটে উঠেছে চার্লস ডিকেন্সের উপন্যাসে; Image Source: Wikipedia

এ সময় অনেক নারী লেখকেরও আবির্ভাব ঘটে, যদিও তারা অধিকাংশই লেখা প্রকাশের ক্ষেত্রে ছদ্মনাম বেছে নিতেন। এমন দুইজন উল্লেখযোগ্য লেখিকা হলেন জর্জ ইলিয়ট (প্রকৃত নাম মেরি অ্যান ইভান্স) এবং অ্যাক্টন বেল (প্রকৃত নাম অ্যান ব্রন্টি)।

এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির দুয়ারেও প্রভূত উন্নতি সাধিত হয়। শিল্প বিপ্লবের হাত ধরেই আসে ক্যামেরার উদ্ভাবন ও বিদ্যুতের বহমুখী প্রচলন। তাছাড়া চার্লস ডারউইন তার “অরিজিন অব স্পেসিস” বইটি প্রকাশের মাধ্যমে সমগ্র বিজ্ঞান জগতেই ঘটান এক নবযুগের সূচনা। তাই তার তত্ত্বের সাথে একমত হোক বা না হোক, বর্তমান সময়ের বিজ্ঞানমনস্ক সকল লেখকই তার কাছে ঋণী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

আইফোনের বিবর্তন: জেনে নিন শুরু থেকে

আমাদের খাদ্যাভ্যাসে ধ্বংস হচ্ছে পৃথিবী; যেভাবে প্রযুক্তি করবে সাহায্য