in

আইফোনের বিবর্তন: জেনে নিন শুরু থেকে

সম্প্রতি অ্যাপল জানিয়েছে, তারা আইফোনের দাম আরো কমিয়ে আনবে। কিছুদিন আগেই কোম্পানিটির রেভিনিউ ১৫% কমে গিয়েছে। নিশ্চয়ই খবরটি শুনে আপনিও আশা করছেন আরেকটি নতুন আইফোন কিনে ফেলার? করাটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আপনি কি জানেন কীভাবে আইফোন এই পর্যায়ে এলো? কীভাবে আইফোনের দামটাই বা এই পর্যায়ে এলো? চলুন না, আইফোনের এই বিবর্তন দেখে নেওয়া যাক!

আইফোন ২জি

প্রথম জেনারেশনের ফোন হওয়ার পরেও অ্যাপল নিজেদের এই আইফোনকে ২জি নাম দেয়; Image Source: i.ytimg.com

প্রথম জেনারেশনের আইফোন প্রথম বাজারে এসেছিল যুক্তরাষ্ট্রে, ২০০৭ সালের জুন মাসে। অ্যাপল এসময় ৪জিবি মডেলের জন্য ৪৯৯ ডলার এবং ৮জিবি মডেলের জন্য ৫৯৯ ডলার নির্ধারণ করে। প্রথম জেনারেশনের ফোন হওয়ার পরও অ্যাপল নিজেদের এই আইফোনকে ২জি নাম দেয়। কেন? কারণ অ্যাপল ঠিক করেছিল এতে ৩জি নয়, ২জি ডাটা দিয়ে কাজ করার। বর্তমানে এই আইফোন অনেকটাই দুর্লভ। এমনকি ইবেতে (EBay) আসল দামের চাইতে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়ে গিয়েছে ফোনটি।

আইফোন ৩জি

২০০৮ সালের জুলাই মাসে আইফোন থ্রিজি বাজারে আনা হয়। একসাথে মোট ২২টি ভিন্ন ভিন্ন দেশের বাজারে ছাড়া হয় এই ফোন। প্রথম সপ্তাহেই এক মিলিয়ন ফোন বিক্রি হয়ে যায়। দ্বিতীয় জেনারেশনের এই ফোনে দুটি রং ছিল। সাদা ও কালো। আগের ফোনের চাইতে অনেক কম দামে, মাত্র ৯৯ ইউরোতে ফোনটি বাজারে ছাড়ে অ্যাপল। ফোনটিতে iOS 2.0 software রাখা হয়। এছাড়া অন্যান্য আপডেটস এনাবলিং ফিচার যেমন Multimedia Messaging (MMS) রাখা হয়। এর এক বছর পরেই আইফোন থ্রিজিএস বাজারে আনা হয়। এখানে S দিয়ে স্পিড বা গতি বোঝানো হয়। ২০১০ সালে আইফোন থ্রিজি উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।

আইফোন ৪

২০১০ সালেই আইফোনের চতুর্থ জেনারেশন চলে আসে। স্যান ফ্রান্সিসকোতে এই নতুন সেটের কথা বলা হয়। তখন অ্যাপলের তৎকালীন সিইও স্টিভ জবস আইফন ৪-কে এখন পর্যন্ত নির্মিত হওয়া সবচাইতে পাতলা স্মার্টফোন উপাধি দেন। ‘এটি সবকিছু বদলে দিয়েছে। আবার।” এই শ্লোগানের সাথে বাজারে নতুন এই ফোনটিকে নিয়ে আসে অ্যাপল। এই ফোনের ফ্রন্ট-ফেসিং ক্যামেরা ব্যবহার করা হয়। ফলে ফেইস টাইম ভিডিও চ্যাট করা সম্ভব হয়েছিল এই ফোন আসার পর। ১৬ জিবির এই মডেলটির দাম রাখা হয় ৪৯৯ ইউরো এবং ৩২ জিবি ভার্সনের দাম রাখা হয় ৫৯৯ ইউরো। ৫ম জেনারেশনের আরেকটি আইফোন ৪এস বাজারে আনা হয় এক বছর পর। সেখানে অক্টোবর, ২০১১ তে প্রথম ভয়েজ অ্যাসিস্ট্যান্ট সিরি বা Siri কে সবার সাথে পরিচিত করা হয়।

অ্যাপলের তৎকালীন সিইও স্টিভ জবস আইফন ৪-কে এখন পর্যন্ত নির্মিত হওয়া সবচাইতে পাতলা স্মার্টফোন উপাধি দেন; Image Source: stuarthughes.com

আইফোন ৫

২০১২ সালের সেপ্টেম্বরে আইফোন ৫ বাজারে আসে। এটিই স্টিভ জবসের সময়ে আসা শেষ আইফোন ছিল। ২০১১ সালে জবস মৃত্যুবরণ করেন। বাজারে আনার আগে অ্যাপল আইফোনটির জন্য প্রি অর্ডার নেওয়া শুরু করে। সেসময় ২৪ ঘন্টাতেই ২ মিলিয়ন অর্ডার পায় তারা। এই নতুন ফিচারের মধ্যে ছিল ৪জি, আরো পাতলা ও হালকা গড়ন, লম্বা স্ক্রিন ইত্যাদি। আইফোন ৫ এর দাম রাখা হয় যথাক্রমে ৫২৯ ইউরো (১৬ জিবি), ৫৯৯ ইউরো (৩২ জিবি) এবং ৬৯৯ ইউরো (৬৪ জিবি)। পরবর্তীতে অ্যাপলের আইফোন ৫সি ও ৫এস আনার মাধ্যমে জানানো হয় যে, আইফোন ৫ আর উৎপাদন করা হবে না।

আইফোন ৬

২০১৪ সালে নিজেদের আইফোন ৬ ও আইফোন ৬ প্লাসের মাধ্যমে প্লাস-সাইজের অপশন নিয়ে আসে অ্যাপল বাজারে। আইফোন ৬-এর ডিসপ্লে ছিল ৪.৭ ইঞ্চি। অন্যদিকে, আইফোন ৬ প্লাসের ডিসপ্লে ছিল ৫.৫ ইঞ্চি। সাথে এতে ছিল উন্নত ক্যামেরা, আরো বেশি ব্যাটারি লাইফ এবং অ্যাপল পে ইত্যাদি। আইফোন ৬ এর মূল্য রাখা হয় ৫৩৯ ইউরো। অবশ্য এক বছরের মধ্যেই আইফোন ৬এস ও ৬এস প্লাস বাজারে চলে আসলে আইফন ৬ এর আগের ভার্সনগুলো বাজার থেকে উঠে যায়।

আইফোন ৭

দুইটি মডেলেই ৩২ জিবি ও ১২৮ জিবি সাইজ রাখা হয়েছিল; Image Source: images.techhive.com

২০১৬ সালে আইফোন ৭ বাজারে আনা হয়। যুক্তরাজ্যে তখন এর প্রথম মূল্য রাখা হয়
৫৪৯ ইউরো। আর আইফোন ৭ প্লাসের দাম রাখা হয় ৬৬৯ ইউরো। দুইটি মডেলেই ৩২ জিবি ও ১২৮
জিবি সাইজ রাখা হয়েছিল। আর রং রাখা হয়েছিল ধূসর, কালো ও লাল। এই জেনারেশনের আইফোনে
হেডফোন জ্যাক আলাদ করে ফেলা হয়। সাথে ছিল পানিরোধক প্রযুক্তি এবং ১২ মেগা-পিক্সেল
ক্যামেরা।

আইফোন ৮, ৯ প্লাস এবং এক্স

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত স্টিভ জবস থিয়েটারে ২০১৭ সালে আইফোন ৮, আইফোন ৮ প্লাস এবং এক্স বাজারে আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই সেপ্টেম্বরের শেষের দিকেই রুপালি, ধূসর ও নতুন সোনালি রঙয়ের ভেতরে ফোনগুলো বাজারে আনা হয়। আইফোন ৭ এর অ্যালুমিনিয়াম কেসিং থেকে এই জেনারেশনে গ্লাস ডিজাইনে চলে যায় অ্যাপল। এতে আইফোন ৮-এর ৬৪ জিবি আইফোনের দাম রাখা হয় ৬৯৯ ইউরো।

অন্যদিকে, আইফোন ৮ প্লাসের ৬৪জিবি ভার্সনের দাম রাখা হয় ৭৯৯ ইউরো। আইফোন এক্স আইফোনের দশম বার্ষিকীতে বাজারে আনা হয়। এতে হোম বাটন আলাদা করে দেওয়া হয়। সাথে ছিল OLED display এবং ৫.৮ ইঞ্চি স্ক্রিন তারবিহীন চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা। এর দাম তখন রাখা হয় ৯৯৯ ইউরো। আর তারপর থেকে অ্যাপল একে একে iPhone XR, iPhone XS and XS Max মোট তিনটি ফোন বাজারে এনেছে। যার সর্বনিম্ন দাম ৭৪৯ ইউরো এবং সর্বোচ্চ দাম ১,৪৪৯ ইউরো।

আইফোন এক্স আইফোনের দশম বার্ষিকীতে বাজারে আনা হয়; Image Source: brain-images-ssl.cdn.dixons.com

তবে এবার হয়তো আইফোনের দাম কিছুটা হলেও কমতে পারে! আপনি কী ভাবছেন এই
ব্যাপারে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ক্রিকেট খেলায় ব্যবহৃত যত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি

শিল্প বিপ্লব: আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি