in

কিভাবে আপনার কম্পিউটারের গতি বাড়াবেন?

যুগ বদলের গতি নিজের সাথে সাথে মানুষের জীবন ব্যবস্থা এতবেশি বদলে দিয়েছে যে সবাই এখন গতিপ্রেমী হয়ে গিয়েছে। যে কোন জিনিসে মানুষ চায় অধিকতর গতি। আর তা যদি হয় কম্পিউটার ব্যবহারের গতি নিয়ে তাহলে তো কথাই নেই! কম্পিউটার ব্যবহারকারী এমন কাউকে খুজে পাওয়া যাবেনা যে দ্রুত গতির কম্পিউটার অপছন্দ করে।

নতুন কম্পিউটার ক্রয়ের বেশ কিছুদিন পরে থেকে আস্তে আস্তে যখন কম্পিউটারের গতি কমতে থাকে তখন বেশ বিরক্ত বোধ হয়। তবে নিয়মিত মেইন্টেনেন্স করলে কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি করা সম্ভব। আমাদের আজকের বিষয়টি কম্পিউটারের গতি বৃদ্ধি নিয়েই। তবে আগে জেনে নেওয়া যাক কি কি কারনে কম্পিউটারের গতি কমে যায়।

কম্পিউটারের গতি কমার কারনঃ মূলত আমরা যখন কম্পিউটার ব্যবহার করি তখন এটি আমাদের কাজের ডাটাগুলো সংরক্ষণ করে যা টেম্পোরারি ফাইল বলে চিনি। এই ফাইলগুলো কম্পিউটারের মেমোরিতে থেকে যায় যা ধীরে ধীরে কম্পিউটারকে স্লো করতে থাকে। এছাড়াও বেশ কিছু কারণে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায় সেসব কারণ থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়েই মূলত এই আলোচনা। চলুন তবে জেনে নেওয়া যাক কিভাবে কম্পিউটারের গতি বাড়ানো সম্ভব-

১. ডিস্ক ক্লিনআপঃ কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর জন্য ডিস্ক ক্লিনআপ অতি প্রয়োজনীয় একটি কাজ। কম্পিউটারের ড্রাইভে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ফাইল বা প্রোগ্রাম মুছে ফেলার মাধ্যমে কম্পিউটারের গতি বাড়ানো সম্ভব।

  • ডিস্ক ক্লিন আপ করার জন্য কম্পিউটারের সার্চ বক্সে লিখুন Disk Clean up চিত্রের মতো ডিস্ক ক্লিনআপ নামের অ্যাপটিতে ক্লিক করুন
  • ড্রাইভ সিলেক্ট করে Ok ক্লিক করুন।
  • ভালো করে দেখুন এবং আপনি যে ফাইলগুলো ডিলিট করতে চান তার নামের পাশের বক্সে টিক চিহ্ন দিন। সাধারণত টেম্পোরারি ফাইল গুলো সবচে বেশি জায়গা দখল করে থাকে এবং এগুলো কোন প্রয়োজনীয় ফাইল নয় যা রাখতেই হবে। তাই এই ফাইলগুলো মুছে ফেলাই ভালো।
  • প্রদর্শিত উইন্ডো থেকে Delete Files ক্লিক করুন। ব্যাস, এবার কিছুক্ষন অপেক্ষা করুন।

২. ডিস্ক ডিফ্রেগমেন্টঃ মূলত কম্পিউটারে সকল কাজের ডাটা এর হার্ড ডিস্কে সংরক্ষিত থাকে। ডিস্কে ফাইলগুলো সিরিয়াল অনুযায়ী সাজানো হয়ে থাকে, কিন্তু মাঝে থেকে যদি কোন ফাইল মুছে ফেলা হয় তাহলে সেই জায়গাটুকু ফাকা রয়ে যায়। আরেকটু বিস্তারিত বলা যাক,  ধরুন আপনি ডিস্কে ১০০ এমবির একটি ফাইল সংরক্ষণ করলেন আবার ৪০ এমবি একটি আবার ৮০ এমবি একটি ফাইল সংরক্ষণ করলেন।

পরে প্রয়োজন নেই বিধায় ৪০ এমবির ফাইলটি মুছে ফেললে জায়গাটুকু খালি হলো কিন্তু পুনরায় ৪০ এমবির বড় কোন ফাইল সংরক্ষণ করা হলে তা এই ৪০ এমবির ফাকা স্থানে জায়গা পায় না। এভাবে হার্ড ডিস্কে অনেক ফাকা জায়গার তৈরি হয় যার ফলে কম্পিউটার স্লো হয়ে যায়। এই ফাকা যায়গায় ফাইলগুলো গুছিয়ে রাখতেই মূলত ডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট করা হয়। চলুন তাহলে দেখে নেওয়া যাক কিভাবে ডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট করবেন-

  • সার্চ বক্সে লিখুন Defrag এবং উপরের চিত্রের মতো প্রদর্শিত Defragment and Optimize Drives অ্যাপটি ওপেন করুন।
  • ড্রাইভের লিস্ট প্রদর্শিত হলে সেখান থেকে যেই ডিস্কটি ডিফ্রেগমেন্ট করতে চান সেটি সিলেক্ট করে Analyze বাটনে ক্লিক করুন এবং এনালাইজ শেষে Optimize বাটনে ক্লিক করুন।

এভাবে সপ্তাহ অথবা ১০ দিন পর পর ডিস্ক ডিফ্রেগমেণ্ট করে ডিস্কের হেলথ ভালো রাখা ও কম্পিউটারের গতি স্বাভাবিক রাখা যায়।

৩. অপ্রয়োজনীয় প্রোগ্রাম/সফটওয়্যার আনইন্সটলঃ কম্পিউটারের গতি কমানোর অন্যতম আরেকটি কারণ হচ্ছে ইন্সটলড থাকা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার গুলো। কম্পিউটারে কোন অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আছে কিনা তা দেখে আনইন্সটল করুন। এতে ডিস্কের জায়গা খালি হবে ও কম্পিউটারের গতিও বৃদ্ধি পাবে।

  • আনইন্সটল করতে কম্পিউটারের কন্ট্রোল প্যানেল থেকে Programs নামের অপশনটিতে ক্লিক করুন
  • এবার আপনার কম্পিউটারে যতো প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার ইন্সটল করা আছে তার লিস্ট চলে আসবে। এখান থেকে অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সিলেক্ট করে উপরে Uninstall বাটন ক্লিক করে আনইন্সটল করে দিন।

৪. এছাড়াও কম্পিউটারের গতি বাড়ানোর জন্য CCleaner অ্যাপ ইন্সটল করে একটি অ্যাপ থেকেই টেম্পোরারি ফাইল ক্লিন, ব্রাউজিং হিস্টোরি ক্লিন, ক্যাশ ক্লিন ইত্যাদি কাজ করে ডিস্ক স্পেস বাড়ানো যায় এবং কম্পিউটারের গতি বাড়ানো যায়।

এছাড়াও ডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট এর জন্য Defraggler নামক সফটওয়্যার রয়েছে যার মাধ্যমে ডিস্ক ডিফ্রেগমেন্ট করার কাজটি আরও সহজ।

এই দুইটি অ্যাপের লিংক নিচে দেওয়া হলো-

  • CCleaner – https://www.ccleaner.com/
  • Defraggler – https://www.ccleaner.com/defraggler

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Loading…

0

Comments

0 comments

ইবনে বতুতা: সর্বকালের শ্রেষ্ঠ পর্যটক

কিভাবে ফেসবুক পেইজ হাইড করা যায়?